ভাষার প্রতি ভালোবাসা

0
19

বর্তমান বিশ্বে জনসংখ্যার ভিত্তিতে বাংলায় কথা বলেন এমন সংখ্যা ত্রিশ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। সেই হিসাবে পৃথিবীর প্রধাণ পাঁচটি ভাষার একটি হলো বাংলা । যার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
উপমহাদেশে বৃটিশ শাসন শেষ হওয়ার পর থেকেই মূলত এই অঞ্চলের মানুষ ভাষার অধিকার নিয়ে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। যার পরিণত রূপ ১৯৫২ সালে। আর এই ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধিকার এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা। একটি স্বাধীন দেশ পাই আমরা। দেশের নামের সঙ্গে ভাষার নামটিও জড়িয়ে আছে। একারণে বাংলা আমাদের প্রাণের ভাষা। এটা কোনো কথার কথা নয়।
চর্যাপদের যুগ থেকে যে ভাষার সূচনা তা অনেক বাঁক পেরিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে। অসংখ্য গুণী মানুষ এই ভাষাকে সমৃদ্ধ করার কাজ করেছেন এবং করছেন। তাঁদের সবার চেষ্টায় বাংলা এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও বাংলা সিয়েরা লিওনের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা। বাংলাভাষা ছড়িয়ে পড়ছে পৃথিবীর নানাপ্রান্তে।
বাংলা ভাষার জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন, যারা শ্রম, মেধা দিয়েছেন-তাদের প্রতি আমরা প্রকৃত শ্রদ্ধা তখনি জানাতে পারবো যখন আমরা নিজেদের ভাষাকে শ্রদ্ধা জানাতে পারবো। ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর প্রথম কাজ হলো সঠিকভাবে বাংলা ভাষা লিখতে এবং প্রমিত বাংলায় কথা বলা। আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজেও প্রতিদিন চেষ্টা করে যাচ্ছি আরো শুদ্ধভাবে বাংলা বলতে।
আমরা যদি পৃথিবীর ক্ষমতাধর দেশগুলোর দিকে তাকাই তবে দেখতে পাবো তারা তাদের নিজস্ব ভাষাকে ত্যাগ করে নি। চায়না, জাপান, রাশিয়া,ফ্রান্স, জার্মানি প্রভৃতি দেশে তাদের নিজস্ব ভাষাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়। যেহেতু তারা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ সে কারণে বাইরে থেকে যারা যাচ্ছেন, তাদের অনেকেই সেসব ভাষা শিখে যাচ্ছেন। এই কথাটি বলছি এই কারণে একটি দেশের উন্নতির জন্য বিদেশি ভাষা শিক্ষা অপরিহার্য নয়, তবে বিদেশি ভাষা জানা থাকলে সেটা বাড়তি যোগ্যতা হিসাবে দেখা হয়। এ কারণে নিজের ভাষা ফেলে অন্য ভাষা নিয়ে মাতামাতির প্রয়োজন নেই।
ভাষা শুধু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়, স্পর্ষকাতর বিষয়ও বটে। তাই ভাষাকে সার্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া জরুরি।
আমি বিশ্বাস করি, বাংলাভাষার জন্যই এক সময় পুরো পৃথিবী বাংলাদেশকে চিনবে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকল ভাষা সৈনিকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

সোনালি সকাল বিশ্বাস করে পজিটিভ বাংলাদেশ।এই স্লোগানে ২০০৭ সালে সেপ্টেম্বর মাসে সোনালি সকাল যাত্রা শুরু করেছিল। অল্প কিছুদিনের মধ্যে মানুষের ভালোবাসায় স্থান করে নিয়েছিল। সোনালি সকাল সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক পত্রিকা। এখানে দৈনন্দিন জীবনে আমাদের চারপাশে যা কিছু ঘটে চলেছে, সেই জীবনধারার গল্প, ফিচার, ভ্রমণ কাহিনী, টেক নিউজ, ডাক্তার বাড়ি নামে স্বাস্থ্য কথা, সুস্থ ধারার বাংলা শিল্প সংস্কৃতি ভুবনজোড়াতে, বাংলার ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প নিয়ে দেশজ ক্রাফটসে প্রকাশিত হবে। পাশাপাশি আমরা উদ্যেক্তাদের গল্পগুলো প্রকাশ করবো, যাতে করে তাদের এই গল্পগুলো নতুন উদ্যোক্তাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেয়।
সোনালি সকাল ২০০৭ সালে শুরুর অল্প কিছু দিনের মধ্যে অ্যালাক্সা রেঙ্কিং এ সেরা ৪ এবং পরে সেরা ৩ ওয়েবসাইটে স্থান পেয়েছিল। এবং আমাকে দিয়েছিল বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন নারী সম্পাদকের স্বীকৃতি।
কিন্তু ২০১৮ সালের শেষদিকে নানা প্রতিকূলতার মাঝে এর যাত্রাপথের খানিকটা বাঁধা পায়। এবং প্রকাশ বন্ধ থাকে।
২০২১ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি সোনালি সকাল পুনরায় যাত্রা শুরু করলো। আপনাদের ভালোবাসায় অল্পকিছুদিনের মধ্যে আবার সবার মনে স্থান করে নিবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
আমরা বিশ্বাস করি পজিটিভিটি।
আমরা বিশ্বাস করি সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চার।
সেই বিশ্বাসকে পুঁজি করেই সোনালি সকালের এই পুন:যাত্রা কন্টকহীন হোক, এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।
আপনাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসা চাই।
আপনাদের হোমস্ক্রিনে অতি শিঘ্রই সোনালি সকাল স্থান পাবে- এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
সবাই ভালো থাকবেন।
সুস্থ ও নিরাপদ থাকবেন।

-নিশাত মাসফিকা
সম্পাদক ও প্রকাশক
সোনালি সকাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here