দেশজ ক্রাফ্টস্ গ্রুপের অলিগলি জুড়ে উদ্যোক্তা আপুদের পরিচয়,তাদের পথচলা আর উদ্যোগ নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুনে খুব ভালো লাগছে… সবার উদ্যোগের সাথে ছিলো পরিবারের সমর্থন।আমার সাথেও আছে, কিন্তু একটা খোঁচা মুরুব্বি মহল থেকে শুনতে হয় এখনও “বি. সি. এস নিয়ে কেনো সিরিয়াস ছিলাম না…”!!! সো কলড ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট ছিলাম কি-না!!!
ক্রাফ্টিং নিয়ে কাজ সেই শৈশব থেকে শুরু হলেও,উদ্যোক্তা হিসেবে আমার জার্নিটা শুরু বছর খানেক।তাই অনেকের তুলনায় এখনও নিজেকে এই পথে নবীন মনে হয়।


আমি বরাবরই স্বাধীনচেতা,মনের উপর সহজে জোর খাটাই না।এ্যাডভেঞ্চারের নেশায় বুঁদ থেকে আর্কিওলজি বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করেছি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পহাড়,নদী,অরণ্য,সমুদ্র, সমতল সবকিছুতে অবাধ বিচরণ করেছি।উৎখননে অংশ নিয়েছি,কখনো জাতিতাত্ত্বিক এক্সপ্লোরেশনে মাইল কে মাইল আদিবাসী কমিউনিটির পাড়া-মহাল্লায় হেঁটে বেড়িয়েছি।কখনও আবার ছুটে গেছি জাদুঘরের কনটেম্পোরারি আর্ট এবং ক্লাসিকাল আর্ট গ্যালারীতে (এডভান্স মিউজিওলজি ক্লাস করতে)।সভ্যতার সৌন্দর্য কেবল পাঠ্য বইয়ের পাতায় উল্টেপাল্টে দেখিনি।মিশে গেছি সমৃদ্ধ অতীতের ধূলিকণার সাথে। আড়াই হাজার বছর আগের কিংবা তারচাইতেও প্রাচীণ সভ্যতার লীলাভূমির বুক চিরে বের হতে দেখেছি অসাধারণ সব নিদর্শন, কি তার সৌন্দর্য, কি তার কারুকাজ!!! এই লেখাটা লিখছি আর ভীষণ নস্টালজিয়ায় ভুগছি…
আমার একাডেমিক লেখাপড়া আমাকে ডিজাইন ডেভেলপ করতে বেশ সহায়তা করেছে।মাত্র অল্প সময়ে কাজ শুরু করেছি, কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ বেশ সাড়া পাচ্ছি।আমার ক্লায়েন্ট লিস্টে যুক্ত হয়েছেন সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ (ঢা.বি,জা.বি), সাধারণ গৃহবধূ থেকে শুরু করে উন্নয়নকর্মী,আছেন প্রজাতন্ত্রের কর্মীরাও… এই এক জীবনে এটাই বা কম কিসের।
অল্পে তুষ্ট থাকা এই আমিটা যখন যে কাজটা করেছি বেশ মনোযোগ দিয়েই করেছি।সংসারটাও আমি কিছু বুঝে উঠবার আগেই কেমন করে যেনো খুব আনন্দ নিয়েই করছি। আমি আনন্দে থাকতে ভালোবাসি, আর ভালোবাসতেও ভালোবাসি। I love to live…to love…to travel…

আমরা যারা নারী উদ্যোক্তা তাদের অধিকাংশই খুব সুন্দর কুসুমাস্তীর্ণ পথ দিয়ে এ জীবনে আসেন নাই, অনেকে শিক্ষিত হয়ে শুধু হোম মেকার থাকবো,শুধু বাচ্চা লালন করবো…এরূপ যাতনা থেকেও উদ্যোক্তা হবার পথটাই বেছে নিয়েছেন। আবার অনেকে মেটালিক কর্পোরেট কালচারের সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরেও একটা উদ্যোগ নিয়ে কাজ করা শুরু করেছেন।অনেকে বিসিএস না হওয়ার গ্লানি দূর করতেও এমন জীবন বেছে নিয়েছেন। আবার অনেকে চাকরীরত অবস্থায়ও নিজের স্বাধীন ভেঞ্চার এস্টাবলিশ করতে এ পথে নিজের নাম লিখিয়েছেন।কারণ যা-ই হোক,এদেশের নারীরা অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।সবকিছুর উর্দ্ধে নিজের স্বাধীন সত্ত্বার বিকাশ ঘটাচ্ছেন, এটাই বা কম কিসের।
আমার কাজগুলোতে সুই সুতার ব্যবহার বেশি,তাই সংসারের সবটা সামাল দিয়ে এবং দুই দুইটা ছানাপোনার জাগতিক অনাসৃষ্টি মাথায় নিয়ে নিজের উদ্যোগটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া খুব একটা সহজ কাজ না।তারপরও যখন ক্লায়েন্ট ফোন করে কিংবা ম্যাসেজ পাঠিয়ে বলে,”আপু আপনার কাজ ছবির চাইতেও অনেকবেশি সুন্দর… ” তখন সত্যি আমার রাত জাগার ক্লান্তি দূর হয়ে যায় নিমেষেই। আমার সত্যিই এই পথ চলাতেই আনন্দ,অন্তত বাচ্চা দুটো চোখের সামনে তো থাকে…একটা দীর্ঘ জীবন কামনা করি ওদের জন্য।

কিছু কাজ কখনোই পুরনো হয় না,বারবার করলেও বিরক্তিকর মনে হয় না!!!”মিথ” নামের গহনাটা আমার তেমনই একটা কাজ। আমার স্টার্ট আপটা হয়েছিল এই গহনাটা দিয়ে। এটার পরতে পরতে আমার স্বাক্ষর রয়েছে… তাই এটাই আমার সিগনেচারী আইটেম। নিজের মেয়ের নামে এর নাম দিয়েছি “মিথ”…
আমার কাজগুলো বেশ সময়সাপেক্ষ,তাই অনলাইনে উপস্থিতি কিছুটা কম থাকে।আমি চাই আমার বাচ্চাদের সাথে সাথে বড়ো হোক আমার উদ্যোগটাও।

-পৃথ্বীলা
প্রতিষ্ঠাতা
মিথ আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here