আমার কাজের শুরুটা ছিলো পিনন শাড়ি নিয়ে। এখনো সেই পিননের প্রেমে পড়ে আছি। তাই ঘুরে ফিরে পিননের যাবতীয় ডিজাইনেই ফিরে আসি। আমি মূলত আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, গয়না ও কৃষিপণ্য নিয়ে কাজ করছি।
সাথে কখনো যুক্ত হয় আরেক প্রেম খাদি।
সত্যি বলতে কি, খাদির নাম সেই ছোটবেলা থেকে শুনেই এসেছি। কখনো দেখিনি।
কিন্তু প্রথম যেদিন একটা খাদির থ্রিপিস উপহার পাই, সেদিন সেই কাপড়টা এত পছন্দ হয়েছিলো!
তবে যাই পছন্দ করি, কেনো যেনো তা দেশিয় পোশাকেই সীমাবদ্ধ থাকে! আগে মনে হতো, দেশিয় পোশাকের দাম বেশি। নয়তো সবাই ইন্ডিয়ান আর পাকিস্তানি পোশাকে কেনো ঝুঁকবে!
কিন্তু হায়! উহা যে ট্রেন্ড ছিলো, তা বোধ হয় কেবল আমিই জানতাম না ।

মাঝে মাঝে সবকিছু থেকে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। মনে হয়, একা থাকলে পৃথিবীর সব হতাশা থেকে বেঁচে থাকতে পারবো।
কিন্তু তখনই আবার কাজ শুরু করি। একবার কাজে ডুবে গেলে সৃষ্টিশীলতার মাঝে হারিয়ে যাই। নতুন নতুন কাজ, নতুন নতুন ভাবনা দিয়ে নিজের কর্মপরিকল্পনা সাজাই।
তখন আর হতাশা থাকে না। কাজই হতাশা ভোলানোর বড় মাধ্যম বলে মনে হয়।
যখন কাজ শুরু করি, নেহাত অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার কথা ভেবেছিলাম।


আমার বাবা নেই আজ ৩ বছর। বোনেরা সবাই বিবাহিত। বড় ভাইও বিবাহিত ও নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত। পরিবার বলতে এখন শুধু মা, ছোট ২ ভাই আর আমি।
উদ্দেশ্য এখনও সেটাই আছে। কিন্তু মাঝখান থেকে আমার কাজটা এখন এক প্রকার সখ ও স্বপ্নে পরিণত হয়ে গেছে।
সারাক্ষণ শুধু মাথায় ঘোরে নতুন কোনো ডিজাইন। মনে মনে ভাবি, ওই কাজটা যদি নিজে করতে চাই, তাহলে কিভাবে করবো?
ম্যাটারিয়ালস এনে ভাবতে থাকি বড় কোনো যন্ত্রপাতি ছাড়া কাজটা হাতে করা যায় কি না? তাহলে কিভাবে করবো? কৌশল শিখতে চলে যাই ইউটিউবে।
কিন্তু মূলধন বাড়াতে হবে, এটা মাথায় এলেই মনে হয়, এখনি এত টাকা বিনিয়োগ কি করে করবো? তাই ছোট খাটো করে নিজের হাতে একটু একটু করে বুঁনতে থাকি সেই স্বপ্ন।
মাঝে মাঝে মনে হয়, চাকরিটা করতে না হলে কাজে আরও ভালোমত মননিবেশ করতে পারতাম। কিন্তু পরক্ষণেই মনে হয়, কাজে এখনও পোক্ত হয়ে উঠিনি। শুধু এই অনলাইন বিজনেস করে এখন দাঁড়ানো যাবে না। অতঃপর চাকরির ফাঁকে ধুঁকে ধুঁকে চলতে থাকে আমার কাজ।
কাজে ব্যস্ত থাকুন, হাসিখুশি থাকুন।

কেএন সানজিদা
স্বত্বাধিকারী
পিদিম হাউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here