ঠিক উদ্যোক্তা বলতে যা বুঝায়, আমি কিন্তু তা নই এখনো! কেবল শখের আঁকাআঁকিগুলো সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করি। এই উদ্যোগটা তিন বছর আগের হলেও পড়াশোনার জন্য সময় দিতে পারিনি। একটু ফ্রি হয়ে এই বছর আবার নতুন করে পথচলার শুরু।


উদ্যোক্তা জীবনে নতুন নতুন সব অভিজ্ঞতা পাওয়া লাগছে! কিছু ভাল, কিছু মন্দ। এই যেমন ধরুন আপনি যখন একদম নতুন কোনো উদ্যোগ নেবেন, তখন আপনার কাছের পরিচিত মানুষেরাই কিন্তু সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে আপনার উদ্যোগটাকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে। কেননা বড় পরিসরে পরিচিতি পেতে সময় লাগে বেশ। কিন্তু আমাদের পরিচিত অনেকেই আছেন যারা আমাদের কাছে অনেক মানসম্মত প্রোডাক্ট থাকা সত্ত্বেও আরো বেশি দামে বাইরে থেকে কিনে আনেন। তখন খারাপ লাগে, কেননা তাদের মূল্যায়নের উপর ভিত্তি করেই কিন্তু আমাদের এগিয়ে যাওয়া, তাই না? তাই আমি নিজে সবসময় চেষ্টা করি আমার পরিচিত কেউ নতুন উদ্যোগ নিলে তার কাছ থেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসটি কিনে নিতে। কারন আমি জানি এই ব্যপারটা সেই মানুষটাকে কতটা অনুপ্রেরণা দেয়। এই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই তো আমরা উদ্যোক্তা হতে ও গড়ে তুলতে পারি।
আমি সিলেট থেকে কাজ করছি হ্যান্ডপেইন্টেড ও ব্লক পেইন্টেড কাপড় নিয়ে।
বেশ কয়দিন ধরে ভাবছিলাম, আমার পেজের ফটোগ্রাফিতে ভিন্নধর্মী কিছু করতে, যাতে লোকে দেখলেই বুঝে এটা চিত্রালী – Chitrali র প্রোডাক্ট। এতদিন আলাদা কিছু না করলেও আজ হঠাৎ ই মনে হল আমার আদরের উকুলেলেটা প্রোডাক্টের সাথে জুড়ে দিলে কেমন হয়? ব্যাকগ্রাউন্ডে ফুল, পাতা, পাটি, মালা, বই অনেকেই রাখে, কিন্তু মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট এর সাথে কাপড়ের ফটোগ্রাফি আমার চোখে পড়েনি। তাই যেই ভাবা সেই কাজ! ঝটপট শাড়ি দুটোর সাথে উকুলেলে জুড়ে ছবি তুলে ফেললাম।

হ্যান্ডপেইন্টের কাজটা আমি খুব এঞ্জয় করি।কখনো নিজের পছন্দের ডিজাইন, কখনোবা কোনো বিখ্যাত চিত্রকর্মের অনুকরণে। একেকটা ডিজাইন নিখুঁত করে করতে কি পরিমাণ কষ্ট ও সময় দিতে হয় তা বলে বুঝানো যাবে না৷ তবে একটা কথা আছে না যে আত্মার তুষ্টিই বড় কথা? এই সন্তুষ্টির কাছে কোনো কষ্টই কষ্ট না। এমনও হয়েছে যে আমি কষ্ট করে একটা ড্রেস ডিজাইন করেছি, কিন্তু করার পর আমার নিজের ভালো লাগে নি বলে পেজে আপ্লোড দেইনি। কারণ আমার কথা হল আমি নিজে যে ড্রেসটি এক দেখায় পছন্দ করছি না বা কিনব না, সেটা অন্যদের পছন্দ করার জন্য কেনই বা দিব! এটাকে সততা বলুন বা বোকামি, আমার এতেই আনন্দ।

একটা কাজ শুরু করে সেটাকে পুরোপুরি গুছিয়ে এনে একটা পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে যে কতটা কষ্ট ও শ্রম দিতে হয়, সেটা শুধু সেই কাজের পিছের মানুষেরাই জানে! সকল কষ্ট দূর হয়ে যায় যখন ক্রেতার মুখে সন্তুষ্টির হাসি ফোটাতে পারি। যদিও অনেক সময় অনেক কাজের মূল্যায়ন হয় না, তবে সেটা নিয়ে মন খারাপ না করে যতটা পারা যায় নিজের কাজে ফোকাস রাখা উচিত৷ আর হ্যাঁ, আপনার উদ্যোগে যদি গতানুগতিক ট্রেন্ডের বাইরে গিয়ে কিছু ভিন্নতা নিয়ে আসতে পারেন, তবে তা আলাদা করে কিন্তু মানুষের চোখে পড়ে।
এই যেমন আমি ভাবছিলাম ভিন্ন ধরণের কোনো ফুল নিয়ে কাজ করব, যেটা এর আগে কেউ করেনি। অনেক চিন্তাভাবনার পর রাধাচূড়া ফুলটাকে মনে ধরল। রাধাচূড়া ফুলের মত দৃষ্টিনন্দন একটা ফুল ঠিকঠাকমত শাড়ির জমিনে ফুটিয়ে তুলতে বেশ কষ্টই হচ্ছে! আর এই কষ্টটাই কাজটাকে আরো সুন্দর করে তোলার চাবিকাঠি, তাই না?
আমার মনে হয় ছোটখাটো স্ট্র‍্যাটেজিগুলাই আসলে একটা উদ্যোগ সফল হওয়ার মূল ভিত্তি। আর সবার উপরে কোয়ালিটি একটা ফ্যাক্টর ত আছেই ।
এত ব্যস্ততার মধ্যেও নিজেই ডিজাইন করি, নিজেই মডেলিং করি। দিনশেষে যে মানসিক তৃপ্তিটুকু পাই, সেটাই আমার অমূল্য অর্জন।

স্বপ্নীলা চোধুরী
স্বত্বাধিকারী
চিত্রালী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here