অমি অনলাইনে কাজ করে , প্রতিদিন নানান রকম শিডিউল , কাজ করতে করতে দম নেয়া মুশকিল হয়ে যায় , তার উপর অনলাইনে এক বদ লোক তাকে যখন তখন কল , ম্যাসেজ , থ্রেট দিয়েই যাচ্ছে ।
কি করে কাজ করে দেখে নেবে , কিভাবে এগোয় সে দেখে নেবে , কিভাবে সংসার করে দেখে নেবে ইত্যাদি ইত্যাদি বলার সাথে কাজের ভুল ধরা এবং তুমি তো কিছুই পারবে না – দেখো অন্যরা কত কি করল , কত কি পারল – তোমার দ্বারা কিছুই হবে না ইত্যাদি তো আছেই । অদ্ভুত এক লোক , ব্লক করলে বাসার ল্যান্ড ফোনে কল দেয় । বিভিন্ন নাম্বার থেকে কল দিতেই থাকে , ফোন কেন ধরছে না সেটা নিয়েও ধমক , যেন তাকে এডভাইজার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে । অদ্ভুত ! অস্বস্তিকর !
অমির কাজ কর্মে ব্যাঘাত পড়ে , মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে । এভাবে বিরক্ত করার কি মানে – খুঁজে পায় না ।
আপনি কি জানেন এটা সাইবার বুলিং ? অমি জানে না , আজ জানলো ।

আসুন জেনে নিই , cyber bullying কি ?
অক্সফোর্ড ডিকশনারি মতে, Cyber বলতে কম্পিউটার, তথ্য প্রযুক্তি ও ভার্চুয়াল সংস্কৃতির গুণাবলির সাথে সম্পৃক্ততা বুঝায় এবং ক্যামব্রিজ ডিকশনারি অনুযায়ী ক্রিয়াপদ Bully হল কাউকে আঘাত করা বা ভয় দেখান, অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটা লম্বা সময় ধরে ও তাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করা যা সে করতে অনিচ্ছুক। এই দুটি শব্দ মিলে গঠিত হয়েছে “Cyberbullying” শব্দটি। এটি Online bullying হিসাবেও পরিচিত।
সাইবার বুলিং বলতে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেল, মোবাইল এসএমএস এ বিশেষত অপ্রীতিকর বার্তা প্রেরণ করে কাউকে হয়রানি কিংবা ভয় প্রদর্শন করাকে বোঝানো হয়।
অক্সফোর্ড ডিকশনারি মতে, বিশেষ্যপদ Cyberbullying হল কোন ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে কাউকে উত্ত্যক্ত করা যেটা কিনা স্বভাবতই হুমকি বা ভয় দেখানোর মত বার্তা প্রেরণের দ্বারা হয়ে থাকে।
ক্যামব্রিজ ডিকশনারির মতে –
“the activity of using the internet to harm or frighten another person, especially by sending them unpleasant messages.”
এ ধরণের কার্যক্রমের মধ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে কারো বিরুদ্ধে গুজব রটানো, হুমকি দেওয়া, যৌন মন্তব্য করা, একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা কিংবা ঘৃণামূলক মন্তব্য করা ইত্যাদি বিষয় গুলো অন্তৰ্ভুক্ত।

তাহলে অমি কি করবো এখন ?

অমি সোশ্যাল মিডিয়া এড়িয়ে চলতে পারছে না , স্মার্ট ফোন বন্ধ করে রাখা ও সম্ভব নয় ।
তাহলে অমি কি করবে এখন ? সে কি এভাবে যন্ত্রণা সহ্য করবে ? মানসিকভাবে অত্যাচারিত হয়ে মাঝে মাঝে সে সুইসাইড করার কথাও ভাবে । কেন ওর সাথে এমন হচ্ছে ? অমি পুর্ন বয়স্ক নারী , স্বামী আছে , পরিবার আছে ।

একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসেবে নানাভাবে আপনি সাইবার বুলিং এর শিকার হতে পারেন কিংবা আপনি নিজেও সাইবার বুলিং এর মত হীনকাজ করতে পারেন।
ডিজিটাল দুনিয়ার একজন বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে নানা রকম ঘটনা অন্তত আপনি প্রত্যক্ষ করবেন এটাই বাস্তবতা। কিন্তু সাইবার বুলিং বা অনলাইন হ্যারাসমেন্ট কিভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব এ ব্যাপারে আপনার জানা থাকলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা আপনার জন্য সহজ হবে। এক্ষেত্রে আপনি নিজে বা আপনার সন্তান কিংবা আপনার পরিবারের কোন সদস্য সাইবার বুলিং এর শিকার হচ্ছে কিনা তার ডিভাইস ব্যবহার করা দেখেই অনুমান করতে পারবেন।
হঠাৎ করে ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়ে যাওয়া, ঘনঘন মেসেজ করা বা মেসেজের রিপ্লাই দেয়া, মোবাইল ফোনের সাথে মেজাজ দেখানো, লুকিয়ে ডিভাইস ব্যবহার করা, সোশ্যাল মিডিয়া এভয়েড করা কিংবা হঠাৎ করে ডিপ্রেসড হয়ে যাওয়া , মেজাজ খিটখিটে ইত্যদি লক্ষণ দেখলে এ আচরণগুলোকে গুরুত্ব নিয়ে দেখুন।
সাইবার বুলিং একধরণের অপরাধ । একে গুরুত্ব দিয়ে দেখুন।
খেয়াল রাখুনঃ আপনার পরিবারের সদস্যের মেজাজ খুব দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে কিনা খেয়াল রাখুন। একই সাথে এই মেজাজ খারাপের সাথে তার ডিজিটাল ডিভাইসের কোন সম্পর্ক আছে কিনা বোঝার চেষ্টা করুন। আপনি নিজে আক্রান্ত হলে হতাশ না হয়ে এর থেকে পরিত্রাণের উপায় বের করুন ।
কথা বলুনঃ আক্রান্তের সাথে কথা বলে জানার চেষ্টা করুন কি ঘটেছে, কিভাবে এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটলো, কে বা কারা এর সাথে জড়িত জানার চেষ্টা করুন। কেন এমন করছে ? কবে বন্ধ করবে এই আচরণ ?
প্রমাণ রাখুনঃ কোথায় কি ঘটছে তার রেকর্ড রাখুন। সম্ভব হলে ক্ষতিকর পোস্ট বা কমেন্টের স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন। বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা বলে যে বুলিং পুনঃ পুনঃ সংঘটিত হয় এমন একটি অপরাধ; সুতরাং আপনি রেকর্ড রাখার সুযোগ নিশ্চয়ই পাবেন।
ব্লক করুন – যে নাম্বার বা আইডি থেকে বিরক্তিকর কল আসে তা ব্লক করে দিন । অপ্রয়োজনে যারা রাত বিরেতে কল দিয়ে আপনাকে হেনস্থা করছে তাদের এক সেকেন্ডে ব্লক করুন ।
রিপোর্ট করুনঃ অধিকাংশ সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মের নিজস্ব রিপোর্টিং পদ্ধতি আছে। সেগুলো অনুসরণ করুন। প্রয়োজনে সেই সাইটে যোগাযোগ করে অফেনসিভ কন্টেন্টটি রিমুভ করার জন্য বলুন। ওই আইডি সম্পর্কে জানান । প্রমাণ দিন ।
সাপোর্টঃ সাইবার বুলিং এর শিকার কোন ভিকটিমের জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে সাপোর্ট দেয়া । আপনার পরিবারের জুনিয়র বা সিনিয়র সদস্যটির অস্বভাবিক আচরণে ক্ষুব্ধ না হয়ে তার সমস্যাটি বোঝার চেষ্টা করুন। কিভাবে সে এ সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে পারবে সে ব্যাপারে তাকে সাহায্য করুন। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কল করুন ১০৯ নাম্বারে । অথবা জরুরী নাম্বার ৯৯৯ তো আছেই ।
নিজেকে এবং অন্যকে সাহস যোগান, মনোবল অটুট রাখতে উৎসাহিত করুন। আইনি সহায়তা নিতে ভয় পাবেন না । আপনার ভয় আপনার উপর অত্যাচার বাড়িয়ে দেবে , নিজেকে সুস্থ সুন্দর রাখতে সাহসী হোন । অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন, অন্যায়কারী ভয় পাবে । সেই সাথে যাদের এমন বিকৃত মানসিক সমস্যা আছে তারাও নিজেদের গুটিয়ে নেবে ।
মনে রাখবেন – সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করা আপনার অধিকার ।

অনামিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here