আমার নানী ও ছোট ভাই

আমি যখন ৫ বছরে ছোট্ট মেয়ে তখন, একদিন হঠাৎ এক ঝড় নেমে আসে আমাদের জীবনে।
আমার দাদি মারা জান ১৯৯৫ সালের ১৪ আগস্ট। ওই দিন, আমার বাবা , চাচা ( ২জন), আমার চাচী , ফুফু , ফুফা, ফুফাতো ভাই সহ সবাই ঢাকা থেকে লাশের গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিল আমাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর এ। পথে কুমিল্লাতে রোড এক্সসিডেন্টে সবাই এক সাথে মারা যান।

এক সাথে আমরা ১১ জন পরিবারের সদ্যসদের হারাই।
বাবা আমার নানী কাছে আমাদের ৪ ভাই বোন আর মাকে রেখে যান, ৪ দিন পর এসে নিয়ে যাবেন বলে যান। কিন্তু দূর্ঘটনায় সব তছনছ হয়ে যায়।

যখন টিভি তে নিউজ আসে, সবাই অনেক কান্নায় ভেঙে পরে, আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না. শুধু দেখলাম সবাই কাঁদছে , খুব কাঁদছে, আমিও কাঁদছি কিন্তু কেন তা জানি না…।

আমার মা একটা চিৎকার করে কেঁদে উঠলেন, সেই থেকে মা আমার আর কানে শুনতে পারেন না। নিজেদের মনের কষ্ট কিংবা দুঃখ আর কখনই মাকে সেই ভাবে বলে উঠতে পারিনি।

সেই দিন থেকে নানী আমাদের বাবা ,আমাদের মা।
আমাদের জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয় আর পড়াশোনা সবটাই নানীর বাসায়। তিনি না থাকলে আজ কোথায় যে থাকতাম জানি না। জীবনের সব সুখ দুঃখ আর আদর স্নেহ , শাসন সবটাই তার থেকে পাওয়া। আমাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া, স্যারদের সাথে সব সময় পড়াশুনার ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া , সব দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন খুব সুন্দর ভাবে।
যদিও নানী আমার খুব বেশি পড়ালিখার সুযগ পাননি। কিন্তু তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান একজন মানুষ। খুব ন্যায়পরায়ণ আর আর্দশবান মানুষ তিনি। অনেক ঝড় , অনেক মানুষের অনেক কথা শুনতে হয়েছিল তাকে আমাদের জন্য। তবুও তিনি বুকে আঁকড়ে রেখেছিলেন আমাদের।
আজ আমার দুই ভাই আর আমি ইঞ্জিনিয়ার হয়েছি আমার নানীর জন্য। যদিও এই রাস্তা আমাদের জন্য অনেক অনেক কঠিন ছিল। আমাদের অনেক কষ্ট করে এই পর্যন্ত আসতে হয়েছে। তবুও আমরা অনেক ভাগ্যবান। শত কষ্টেও হার মানিনি। আজ অনেক ভালো আছি। আল্লাহর ইচ্ছায় আজ আমরা সব ভাই বোন ভালো আছি।
আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে চাই।
নানী আর মাকে নিয়ে যেন ভালো থাকতে পারি সবাই দোয়া করবেন।

কামরুন নেসা পলি
স্বত্ত্বাধিকারী
রঙিন হাড়ি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here