কি নিয়ে যে লিখি!
ছোটবেলার কথা মনে করতে খুব ভালো লাগে।
ইট কাঠ পাথরের শহরে, আমার জন্ম ও বেড়ে উঠা, পুরনো ঢাকার ইয়া বড় এক বাড়ীতে।
সামনে বিশাল উঠোন, বিশাল আমগাছ, যাতে পেল্লাই পেল্লাই মৌচাক ঝুলত সারা বছর,নারকেল গাছে টিয়ার বাসা ছিল, বকুল, কামিনী, রাধাচুড়া, কনক চুড়া, কৃষ্ণচুড়া, টগর, করমচা, জারুল, দেবদারু, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, সূর্যমুখী, স্পাইডারলিলি, তেজপাতা, বেলি, রজনীগন্ধা, চন্দ্রমল্লিকা, দোলনচাঁপা ছিল সামনের উঠোন ঘেরা মাটির চারধারে।এরপর সিঁড়ি, লম্বা টানা বারান্দা।এরপর মুল ৭ টা ঘর।
সেই পুরনো আমলের পাকিস্তানি জিইসি ফ্যান। এরপর ঘরের শেষে বাড়ির পিছন দিকে ছিল, একটা বেশ বড়সর কুয়া, চন্দন গোটা গাছ, লাল লাল বীচি পড়ে মাটি ভরে থাকত, মহানীম, দেশী পেয়ারা যার ভিতর টা লাল টুকটুকে, বিশাল নারকেল গাছ, মেহেদি গাছগুলো তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে উঠেছিল।
আর ছিল বেজি ও চড়ুই পাখির দল। উফ, সব ঘুলঘুলি গুলো ওদের দখলে! বিড়াল, খরগোশ ও ছিল।
ছোটবেলায় খুব দুরন্ত ছিলাম না, বন্ধুপ্রবনতাও ছিল না, তাই সঙ্গী ছিল, বই, গান আর গাছ।
আফসোস লাগে এখনকার মত, মোবাইলের ক্যামেরা থাকত তাহলে লাখখানেক ছবি তুলে ফেলতাম! দুপুর বেলা বাড়ির মধ্যে আলোছায়ার খেলা যে কি সুন্দর, তার ২/১ টা নমুনা দেখাতে পারতাম আপনাদের।
নিচের ছবি গুলো নালিতাবাড়ির।
জরুরী কাজে নালিতাবাড়ি, শেরপুর, ময়মনসিংহে গেছিলাম। কাজের ফাকে ২/৩ টা জায়গায় গিয়েছি। তার একটি ফাতেমা রাণী চার্চ, বারোমারী। পাহাড়ের উপরে ১৯৪২ সালে তৈরি হয়েছে এই চার্চ টি। পাহাড়ের একদম উপরে উঠলে মেঘালয়ের কিছু পাহাড় দেখা যায়।

লেখাঃ৷ শাহীনা রহমান
স্বত্বাধিকারীঃ পিওর বাংলাদেশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here