আমি ঊর্মি চট্টগ্রামে মেয়ে। আমার আম্মু অনেক সুন্দর সুন্দর কুরুশ কাটার কাজ,চটের উপর ডিজাইন তোলা উলের কাজ বিভিন্ন ধরনের কারুকাজ,ওয়ালমেট ইত্যাদি কাজ করতেন অবসর সময়ে। ছোট বেলা থেকে আম্মুর কাজ গুলো দেখতে দেখতে মনে অজান্তে
এই কাজ গুলো প্রতি ভালোবাসা জমে গেলো।

আর শুধু ভালোবাসলে তো হবে করতে হবে। কিন্তু তখন স্কুলে পড়া অবস্থায় আম্মু কোন ভাবে কাজ গুলো করতে দিতো না কারণ এই গুলো করলে নাকি নেশায় পড়ে যাবো আম্মুর ছিল কড়া বললো লেখাপড়া শেষ হলে তখন শেখাবে।

আর আম্মু যা বললো তাই করলাম, আমাদের সময়ে এস,এস,সি পরিক্ষা দাওয়া পর প্রায় ৩ মাস পর রেজাল্ট দিতো। আর আমি এই ৩ মাস সময় হাতে যখন পেলাম তখন মায়ের হাতে কাজ গুলো শেখার পাশাপাশি শিখলাম বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজের কোর্স।
যেমন বল্ক, বাটিক,এমভুরশ,ব্রাশ প্রিন্ট,গ্যাস পেন্টিং, শৌফিস তৈরি মাটির পটারি, গহনা তৈরি আরো বিভিন্ন কাজ, তখন থেকে আমার কাজ করা শুরু এর সব সময় যখন সময় পেতাম এই কাজ করতাম।
আর সবাইকে উপহার দিতাম।

যখন কলেজে ভর্তি হলাম তখন  এক বান্ধবী সৈয়দা মাসুদা আক্তারকে পেলাম।  সে ও আমার মতো এমন কাজ পাগল।
কিন্তু ও তখন থেকে নিজের একজন ব্যবসায়ী ও চিন্তা ভাবনা ছিল অনেক সুন্দর নিজেদের কাজ নিয়ে একটা পরিচিত লাভ করা, আর পরামর্শ আমি ও রাজি হয় একটা কিছু করার।
দুইজনে সেসব কাজ জানি তা নিয়ে কিন্তু করার সিন্ধান্ত নিলাম।
তখন এমন সোশাল মিডিয়া ব্যাপক পরিচিত ছিলোনা।
তাই আমাদের কাজ গুলো ছিলো অফলাইনে, অনেক কষ্ট হতো সবাই মাঝে তুলে ধরতে তারপর দুই জন মিলে প্রায় ১ থেকে দের বছর আমাদের কাজ গুলো করি এবং ব্যাপক সাড়া পায়।

তারপর গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর আমার বিয়ে হয়ে যায় আমি চলে যায় আমার বান্ধবী কাছ থেকে অনেক দূরে।
তারপর ও আমার ব্যবসা ও বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আমার বান্ধবী কিন্তু হাল ছাড়ে নি ও কিন্তু আমাদের ব্যবসাটা যখন দুই জন মিলে চালাতে পারছি না তখন শুরু করে ও তার নতুন ব্যবসা, নকশিকাঁথার, নিমায়,থ্রিপিস
এসব নিয়ে ওর নতুন ব্যবসা।
আর আমি একা ঘরে বিয়ে হওয়ার একটু এলোমেলো হয়ে গেলাম। বাচ্চা হয়ে গেলো একা ঘর শাশুড়ী অসুস্থ ছিল কেমন যেন আর সাহস করেতে পারলাম না।

তারপর ও একদম হাল ছাড়ি নি , শখের কাজ গুলো ভুলা যায় না অনলাইন সম্পর্কে তেমন কোন আইডিয়া না থাকায় তেমন কোন কিছু করার সাহস করিনি। কাজ গুলো করতাম গিফট করতাম, কারো বিশেষ কোন দিনে,নিজের ঘরে জন্য ।

হঠাৎ চলে আসলো পৃথিবীতে এক ভয়াবহ মহামারী করোনা ভাইরাস, পুরো পৃথিবীটাকে শান্ত করে দিলো, কেউ ঘর থেকে বাইরে যেতে পারছে না। কি এমন পরিস্থিতি তখন আমার ২য় বাচ্চা টা পৃথিবীতে আসলো।
আর তখন অনলাইনে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হলো।
আবার সেই বান্ধবী আমাকে এড করলো বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে।
তখন তো আর এই শখের কাজ গুলো করতে পারছিনা কারণ আমার বাবুর বয়স তখন পাঁচ মাস, কি করা যায়।
বান্ধবীর কাছে পরামর্শ চাইলাম ও বললো আচার নিয়ে কাজ করতে আমি বললাম পারবো তো ও বললো যদি না পারে তাহলে বাসায় খেয়ে ফেলবা চিন্তা করলাম আমার বর থেকে জিজ্ঞেস করলাম ওনি ও বললো তুমি যদি পারো আমার কোর আপত্তি নেই।
আবার আমি চিন্তা করলাম অনিল কাজ একটা জিনিস নিয়ে নামলে যদি তেমন সাড়া না পায় তাহলে হয়তো হতাশা হয়ে যেতে হবে।
পরে আমার বরের সব পছন্দের খাবার, পিঠা পুলি আর
আবার নিয়ে শুরু করলাম আমার উদ্যোগক্তার জীবন।
রকমারি আইটেমস বাই ঊমি।
আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো সাড়া পাচ্ছি এখনো পযর্ন্ত।

আজ আমার সদ সাহাস আর বান্ধবী সদ পরামর্শ আমাকে আমার স্বপ্ন পূরণের একটা রাস্তা খুলে দিয়েছে।

ইনশাআল্লাহ আপনাদের সবার সহযোগিতার আমি আরো সামনে যেতে চায়।

উম্মে সালমা ঊর্মি
স্বত্বাধিকারী
রকমারি আইটেমস বাই ঊর্মি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here