প্রিয় আমার আমি,
কৃষ্ণচূড়া গাছটায় ফুল ফুরিয়ে আসছে। সোনালু গুলোও দমকা বাতাসের তোড়ে কবেই ঝড়ে পড়েছে খেয়াল করিনি।
সন্ধ্যের মুখে নীড়ে ফেরার তাগিদে ঘরমুখো মানুষগুলো যখন তাড়াহুড়োই মত্ত, একবার তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখো,ক্লান্তি ছাপিয়ে কেমন এক প্রশান্তি খেলা করে।যেন কোন দীর্ঘ বিরতির পর পাওয়া স্বস্তি।
ইটকাঠের এই শহরে ঝুপ করে সন্ধ্যে নামে। গোধূলি লগন বলে যে একটা দূর্লভ ক্ষণ প্রকৃতিতে আছে,তা এই যান্ত্রিক মানুষগুলো জানেনা, কিংবা ভুলেই গেছে।

আকাশের ঐ রং বদলের হিসেব কজনই বা রাখে বলো।
পূর্ণিমা আর অমাবস্যায় এই শহরে কোন ফারাক নেই।নিয়ন আলোয় প্রতিটি রাত দিনকেও হার মানায়।
জোনাকি ধরে কাঁচের বয়ামে পুরে তার আলো নিয়ে খেলে এইখানকার শিশুরা।তাও আবার সেই জোনাকির আমদানি ঘটে দূর কোন গ্রাম থেকে,কোন অর্ধপরিচিত, অপরিচিত আত্মীয়ের হাত ধরে।
মুঠোফোন নামক যন্ত্রটিতে খুঁজে বের করে দেখে বাবুই পাখির বাসা।তালগাছ কেমন করে একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকে পথের ধারে,এ এক অবাক বিস্ময় এই শিশুদের কাছে।
কাঠি লজেন্স,হাওয়াইমিঠা, মার্বেল, লাটিম,এক্কাদোক্কা খেলা তাদের কাছে ইতিহাসের কোন অধ্যায়ের মতো।
যন্ত্রের মন্ত্রে এই শহরের শৈশব উড়ে যাচ্ছে কর্পূরের মতো।আমরা পারছিনা কিছুতেই তাকে বেঁধে রাখতে।
এ যে কতো বেদনার তা তুমি বুঝবেনা।
তাই সযতনে মনের সিন্দুকে জমিয়ে রাখা শব্দগুলো মাঝে মাঝে হাতড়ে বেড়াই।
সন্তানকে শোনায় সেই ডালিমকুমারের গল্প,ছাদের কার্নিশ থেকে আচার চুরির গল্প,মেয়েবেলার দুটাকার সিঙাড়ার গল্প।
নন্টেফন্টে, চাচা চৌধুরী ,বিল্লু ,পিংকির বই খুঁজে পেতে এনে দিই ,যেন নিজের শৈশবকে খুঁজে বেড়াই।
এ যেন হারিয়ে যাওয়া সময়কে খুঁজে ফেরা এক গহীন অন্ধকারে….
ভালো থেকো,খুব করে…
ইতি
তোমার আমি।

© লেখনী: অর্পিতা বড়ুয়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here