বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম যখন আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি, তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘বসন্ত’ কাব্যগ্রন্থটি কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেছিলেন। কবি কাজী নজরুল ইসলাম এতে উল্লসিত হয়ে জেলখানায় বসেই লেখেন ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ কবিতা। কবিতায় সৃষ্টির কোলাহল, গতির উন্মাদনা, প্রাণের উচ্ছ্বাস আর মুক্তির আনন্দ – এই ব্যপারগুলো আমাকে বরাবরই অনেক বেশি অনুপ্রেরণা যোগায়। আমার মনে আছে, গ্রেজুয়েশন এর আগে ফাইনাল ইয়ারে শিক্ষক আমাদের জিজ্ঞেস করেছিলেন – “পাশ করার পর প্ল্যান কি?”
অনেকেই ব্যাংক এ কাজ করার কথা বলেছিলেন; বাকিরা কর্পোরেট এর অংশ হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কেউ আবার বিদেশে পাড়ি জমানোর জন্য তৈরী হচ্ছিলেন অথবা বিসিএস এর প্রিপারেশন। কেউ কেউ ব্যতিক্রমও ছিলেন অবশ্যই। আমি শুধু আমার টা জানি যে আমি কোনটাই হতে চাইনি।
“আইস ব্রেকিং ডে” থেকে শুরু করে “ফাইনাল ইয়ারের প্রেজেন্টেশন” পর্যন্ত সব সময় এমনকিছুই করেছি বা পরিকল্পনা ছিলো যেখানে সামষ্টিক উদ্যোগ থাকবে, পাশাপাশি সৃষ্টিশীলতার চর্চা হবে। সৃজনশীল কিছু যেখানে সবাই “সৃষ্টি সুখের উল্লাসে” মেতে উঠবে।
পাশ করেই একটা ইন্টিরিওর-কন্সট্রাকশন ফার্মে জয়েন করে ফেলি। এর মাঝে পড়াশুনা চালিয়েছি, অনেক কিছু করেছি – যার বেশিরভাগ ছিলো ডিজাইন রিলেটেড। মাস্টার্স করার সময় অনেক অনেক প্রেজেন্টেশন দিতে হতো। আমার মনে আছে, আমি একটা প্রেজেন্টেশনেও “সৃষ্টিশীলতার চর্চা” ব্যতীত অন্য কিছু বলতাম না এবং শিক্ষক যখন জিজ্ঞেস করেছিলেন – এরপর আমি কি করতে চাই? উত্তরে আমি বলেছিলাম, এমন একটা যায়গা বানাবো যেখানে সবাই একসাথে “ক্রিয়েটিভিটি” অনুশীলন করবে।
ভাবনা গুলো মাথায় ছিলো সব সময়। শুধু গুছিয়ে বলার মত ভাষা হয়তো আমার ছিলো না। একটা সময় প্রায় জোর করেই আমার এক বন্ধু/সহকর্মী আমাকে বলে – “তুমি আজকেই একটা পেইজ খুলবা, আমি সাহায্য করে দিবো”…
সে সাহায্য করেও ছিলো অনেক। কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে এখন যোগাযোগ টুকুও নেই।
মাঝে আরও অনেকে এসেছে, বন্ধু’ই ছিলো যারা চেয়েছে সম্মিলিত ভাবে কিছু করবে। আমার সময়, শ্রম যা ছিলো আমি দিয়েছি…কিন্তু সহযে কারও মনপূত হতে পারি নাই। এক “নাম” নিয়েই যে কত কত কথা শুনেছিলাম, হিসেব নেই। এরপর লোগো কি হবে, কেন হবে – ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার সবকিছু মনে আছে; আমি শুধু নীরবে নিজেকে আড়াল করে ফেলেছি।

যেহেতু ভাবনার জট ছুটাতে সময় লেগেছে, তাই “আবোলতাবোল” নামটা বেছে নিয়েছিলাম। সুকুমার রায়ের “আবোলতাবোল” কবিতার মত, আমার আবোলতাবোল আড়তে পেয়ে যাবেন মজার মজার সব জিনিসের সন্ধান। সত্যি বলতে এখনো নিদৃষ্ট কোন কিছু নিয়ে আমার কাজ সীমাবদ্ধ নয়। কাজ করছি অনেক কিছু নিয়েই। কেবল গতিটা ধীর ও স্থির। আর এজন্যই তো আমাদের ট্যাগ লাইন – “কাজেই নামের পরিচয়”।

আমি – তারিন নাজ নীরা। কাজ করছি হস্তশিল্প নিয়ে। আমার কাজের প্রাণকেন্দ্র মিনিয়েচার আর্ট। আমি চেষ্টা করি ছোট ছোট ক্যানভাসে রং তুলি দিয়ে বিভিন্ন থীমে ছবি আঁকতে। হাতে বানানো গহনা আর ঘর সাজানোর নানান জিনিস নিয়ে সাজানো আমার আবোলতাবোল আড়ত।

আমি আর আমার “আবোলতাবোল” – আমাদের মূল পুঁজি হলো অনুপ্রেরণা। আমি এখনো নিজেকে উদ্যোক্তা বলতে সাহস করি না, তবে “আবোলতাবোল” একটি স্বত্বা; আর সকলের ভালবাসা ও অনুপ্রেরণা নিয়ে এগিয়ে যাবো সামনে, এই কামনা।

তারিন নাজ নীরা
স্বত্বাধিকারী
আবোলতাবোল

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here