যখন ছবি আকতে শুরু করি, আমার টিচার আমাকে বুঝিয়েছিলেন পৃথিবীর সব কিছু আসলে একটা মস্ত বড় একটা বাক্সের মধ্যে অবস্থিত। মোট কথা পৃথিবীটা নিজেই একটা বাক্স। আর সেই বাক্সটাকে কেটে কেটে আমরা নানান রূপ দিই।
ছবি আকার সব থেকে বড় বেইজ হলো প্রপোরশন/মেজারমেন্ট। ড্যান ব্রাউনের “দ্য ড্য ভিনচি কোড” থেকে আমরা সেই মাপজোক সম্পর্কে জানতে পারি, যার বিশ্লেষক “লিওনার্দো দ্য ভিনচি”। মানব দেহের যথার্থ মাপজোক সর্ব প্রথম তিনিই বিশ্লেষন করেছিলেন।
আবার ফিরে আসি সেই বাক্সে। বাক্স মানেই একটা ফর্ম। আর সেই ফর্ম টা সঠিকভাবে আয়ত্তে আনতে পারলেই মূল ফর্ম ভাংগা সম্ভব। আর সেজন্যই “পাবলো পিকাসো” বলেছিলেন – যদি তুমি কোন কিছুর সঠিক গঠন সম্পর্কে ধারনা নিতে পারো, ঠিক তখনই তুমি মূল গঠন ভাংতে পারবে।
তাই যে কোন কিছু আকতে প্রথমে একটা বাক্স একে নিলে সহজ হয়। এরপর সেই বাক্সকে কেটে কেটে অন্য একটা গঠন বের করে আনা যায়। আর এভাবেই একটা সময়, সুন্দর একটা ছবি হয়ে যায়।
“আউট অফ দ্য বক্স” – একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ। অর্থাৎ গত বাধা নিয়মের বাইরে কিছু করার চেষ্টা। আর সেখানেই ফিরে আসে এই বাক্স ভাংগার গল্প।
কিন্তু মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, কে নির্ধারণ করে দিবে আমি কোন বাক্সে আছি? ধরেই নিচ্ছি বাক্সে আছি, কিন্তু সেই বাক্স ভেংগে আমি কোন রূপে রুপান্তর করব, তাই বা কে জানে সঠিক?
মাঝে মাঝে তাই বাক্সের বাইরে থেকেই নতুন কিছু করার ইচ্ছে জাগে।
এই রে!… কথায় জট পেকে যাচ্ছে। না, আজ আমার গল্পের বাক্স এখানেই বন্ধ করি।
বরং আপনাদের বাক্সের গল্প শুনি…
সবাইকে শুভেচ্ছা আর সাধুবাদ।

লেখা: নীরা নাজ তারিন
সত্ত্বাধিকারী : আবোলতাবোল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here