সেই ছোটবেলা থেকে সময়ানুবর্তীতা নিয়ে আমাদের শেখানো হতো। সময় করে ঘুম থেকে উঠা, স্কুলে যাওয়া, বাড়ি ফিরে ঘড়ি ধরে খেলতে যাওয়া, স্বন্ধ্যে বেলায় পড়তে বসা, আবার রাতে ঠিক সময়ে ঘুমুতে যাওয়া। এর মাঝে কার্টুন কিংবা কোন অনুষ্ঠান দেখতে হলেও ঘড়ি ধরে টিভি দেখার অনুমতি পাওয়া যেত।
এই এত এত সময় মেনে বড় হয়েছি। ছেলেবেলার সময় পেড়িয়ে একটা সময় বড় হয়ে গেলাম।
দ্বায়িত্বশীল হয়ে উঠতে না উঠতেই টের পেলাম সময় কেবল কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষার সময় তখন হলের খাতার গোন্ডি পেরিয়ে আমাদের নিয়ে এসেছে এক নতুন সময়কালে।
এখানে সকাল সকালে দিন শুরু করতে যেয়েও যেন সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো দায়। দিনের শুরুই যখন যানজটে তখন সময় কেবল ঘড়ির কাটায় এগিয়ে চলে। বাদবাকি সব পিছিয়ে থাকে।
এরপর আরও যখন বড় হলাম, নিজের জন্য একটা জগত বেছে নিলাম, সেখানেও সময়কে বশ করা গেলো না। কেননা আমি আমার সময়ে যত এগিয়ে যেতে চাই না কেন, বাকিদের সময় আর আমার সময়ে যে বিশদ ফারাক, তা যেন আর মিটতেই চায় না।
হাল আমলের সময় আবার বড়ই অন্যরকম। অজুহাতের বস্তাবন্দী সকলের জীবন যাপন। সেখানে সময় কেবল সূর্যের উঠা নামায় অবস্থান পায়। ঘড়ির কাটাও বদলে মুঠোফোনের পর্দায় হারিয়ে গেছে অনেকের জীবনে।
সাথে মহামারি এসে যোগ দিয়েছে মাস্কবন্দী সময়কে নিয়ে। হায়রে সময়, তোমায় আর এজীবনে সময়মত পাওয়া হলো না। শেষ করি কৌতুক সম্রাট “ভানু বন্ধ্যোপাধ্যায়” এর সময়ের এক চুটকি দিয়ে…
————–
ভানু দা সারাদিন শেষে ক্লান্ত হয়ে অফিস থেকে বাড়ি ফিরেছেন, গিন্নি কে স্বন্ধ্যাকালীন এক কাপ চায়ের ফরমায়েশ করতেই রান্নাঘর থেকে আওয়াজ এলো – “হাত মুখে একটু জল দিয়ে এসো, পাচ মিনিটে চা দিচ্ছি”
ভানু দা ফ্রেশ হয়ে এসে দেখলেন টেবিলে চা নেই, আরেকবার আওয়াজ দিতেই গিন্নি বললেন -“এই তো পাচ মিনিটের মধ্যেই দিচ্ছি।”
ভানু দা চেয়ারে বসে পত্রিকা হাতে নিলেন। পড়তে পড়তে পত্রিকার শেষ পাতায় চলে এলেন। মুখ বেজার করে এবার একটু রেগেই বললেন – “কই গো তোমার চা কি হলো?”
এবার গিন্নি রান্নাঘর থেকে গজগজ করতে করতে হাতে চা নিয়ে, বেরিয়ে এসে বললেন, “বলি কানে কি কথা যায় না, আধ ঘন্টা ধরে তো চেচাচ্ছি যে পাচ মিনিটের মধ্যেই দিচ্চি!”
গিন্নিকে এরূপ ক্ষেপে যেতে দেখে দাদা শেষে বললেন – “আরে ধুর, চায়ের জন্য তো আমার মোটেও তাড়া নাই। এই তো আধা ঘন্টা ধরে চেয়ে পাচ মিনিটের মধ্যে চা পাওয়া গেলো। আমি আসলে দেখছিলাম সময় টা এখন কার নিয়মে চলছে!”
——————
লেখা: নীরা নাজ তারিন
সত্ত্বাধিকারী : আবোলতাবোল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here