গাছের সাথে মিতালী আমার খুব ছেলেবেলা থেকেই। গ্রামের বাড়িতে বাড়ির আশেপাশে অনেক গাছ দাদী, আব্বু, ভাইয়ারা লাগিয়েছিলেন। তখন আমি অনেক ছোট, বয়স দুই কি তিন। তখন আমার দাদীর সাথে বাড়ির উঠোনে একটা পেয়ারা গাছ লাগিয়েছিলাম। যখন বড় হলাম, গ্রামের বাড়ি যেতাম, দেখলাম পেয়ারার ভিতর টা লাল। আমি তো খুশিতে ডগমগ করছি, আমার লাগানো গাছে পেয়ারা ধরেছে। তাও আবার লাল পেয়ারা।

এখন আমার দাদীও বেঁচে নেই, আর গাছ টাও বেঁচে নেই। প্রিয় সব কিছুই একটা সময় চলে যায়, ফেলে যায় স্মৃতিগুলো। যে চলে যায় তার সবকিছুই স্মৃতি হয়ে রয়ে যায় যে দাঁড়িয়ে আছে তার কাছে। জানি শৈশবের সেই দিন গুলো আর ফিরে আসবে না, সেই উচ্ছল সময় গুলো স্মৃতি হয়ে চোখের সামনে তাড়িয়ে বেড়াবে আমৃত্যু।

তবুও বাঁচতে হয়। কিছু একটা আঁকড়ে ধরতে হয়। আমার সেই আঁকড়ে ধরার উৎস আমার উদ্যোগ “Dirgho-ঊ” এবং আমার বারান্দা বাগান। সেজন্যই হয়তো, আমার উদ্যোগ আর বারান্দা বাগান নিয়ে কেউ কটাক্ষ করলে সে আমার চোখের বালি।

কামিনী, বেলী, কলাবতী, পুর্তলিকা, অর্কিড, সাকুলেন্ট, এলোভেরা সব কিছুই আমার বারান্দায় স্থান পায়। সত্যি কথা হলো, গাছ হলেই হলো। সেটা আমার বারান্দায় থাকতেই হবে। আমি অনলাইন থেকেও গাছ কিনি, আবার নার্সারী থেকেও গাছ কিনি। আবার সুযোগ পেলে হাত টান দিয়েও গাছ নিয়ে আসি। অবশ্য এটাকে আমার কখনোই অন্যায় মনে হয় না। যে গাছ টা ভালো লাগে নিজের বলে নিয়ে আসি, নিজের বারান্দায় রেখে যত্ন করে বড় করি। সেখানে অন্যায়ের কি হলো, তাইনা?

আপনার বারান্দা, ছাদ অথবা বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গায় গাছ লাগান। ফুল গাছ, ফলের গাছ, সবজি এসব লাগিয়ে দেখুন। ওরা যখন বেড়ে উঠবে, খেয়াল করবেন আনন্দে আপনার মনের অবস্থা কি হয়।

একটু একটু করে গাছ লাগানোর অভ্যাস করে ফেলুন। আপনি হয়তো আপনার প্রয়োজনে একটি গাছ কাটছেন। কিন্তু তার পরিবর্তে তিনটি গাছ লাগিয়ে ফেলুন। আমাদের সবুজ বাংলাদেশকে আবারো সবুজে রুপান্তর করা আমাদের দায়িত্ব। বাসার ছাদে গাছ লাগানোর অভ্যাস করুন। এতে আপনার সন্তান এই ইট কাঠের শহরে কিছুটা হলেও প্রকৃতির সন্ধান পাবে। বাড়ির সামনে জায়গা থাকলে আম,কাঁঠাল, মেহগনির গাছ লাগান। গ্রামের বাড়িতে নিজ জমিতে গাছ লাগিয়ে রাখুন। জাননে তো, যেখানে গাছ বেশি থাকে সেখানে বৃষ্টিও বেশি হয়। আর বৃষ্টি বেশি হলেই মাটি উর্বর হয়। অর্থাৎ, প্রকৃতি একে অপরের উপর নির্ভরশীল। একটির সল্পতায় অন্য টিও নিষ্প্রাণ হয়ে রয়।

আমাদের সচেতনতায় পারে প্রকৃতিকে সজীব করে তুলতে । আমরা নিজেদের স্বার্থে গাছ কেটে প্রকৃতির সৌন্দর্য নষ্ট করছি। সময় আসলে প্রকৃতি কিন্তু তার প্রতিশোধ ঠিক নিবে। তাই আমাদের উচিত বেশি বেশি গাছ লাগিয়ে প্রকৃতিকে তার সৌন্দর্য ফিরিয়ে দেয়া। বন্য প্রাণী, পাখপাখালিরা তাদের বসতি ফিরে পাবে। আমরাও বুক ভরে বিশুদ্ধ বাতাস গ্রহণ করতে পারবো। সবুজ সতেজ পৃথিবী সবার কাম্য। আগামী প্রজন্মকে একটা সুস্থ সুন্দর পৃথিবী ফিরিয়ে দেয়া আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

লেখাঃ তাসনিয়া জহুরা
স্বত্বাধিকারীঃ Dirgho-ঊ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here